দুর্গা
.....
আমার স্কুলের বন্ধু দুর্গা। খুব শৌখিন, চুলটা পাফ করা।ও দেবানন্দের ভক্ত ছিল, কোনো সিনেমা মিস করত না।
কিন্তু প্রচুর গুল মারত। অনেকে ওকে গুলবাজ দুর্গা বলত। ক্লাস 8 অব্দি আমার পাসে বসত।
অনেক মজার ঘটনা আছে কিন্তু আমি ওইগুলো এখন লিখতে চাই না।
আমি engineering পাস করে চাকরি করতে Indian Oil র রিফাইনারি তে গেলাম।ও এক স্কুলে ল্যাব আসিস্টেন্টর চাকরি নিলো আর বিকেলে দিল্লির কালী বাড়িতে জুয়া খেলতো।হ্যাঁ আমি দিল্লির Reading Road র Raisina School থেকে পাস করি।
অনেক দিন পর ওর সঙ্গে কালী বাড়িতে দেখা। ও আমাকে ওর বাড়ি নিয়ে গেল। ও আমাকে ওর পাসপোর্ট দেখালো এবং একটা ম্যাপ। ও বলল ও হিচ হায়েক করে খাইবার পাস দিয়ে জার্মানি যাবে। আমি ভাবলাম দুর্গা আমাকে মুরগি বানাচ্ছে, as usual গুল দিচ্ছে। আমি তখন ভাবতে শুরু করলাম ওকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, হয়ে যেতে হবে, ভাবা যায় না।অনেক ক্ষন ওর সঙ্গে অন্য সব বিষয়ে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরলাম ।
তারপর বেশ কয়েকটা বছর কেটে গেল।
এক পূজায় দিল্লি গেলাম, আমরা কালী বাড়ির খুব কাছেই গভেরমেন্ট কোয়ার্টার উইলসন স্কোয়ারে থাকতাম, আমার বাবা তখন ও retire করেনি।
কালী বাড়ি গেলাম স্ত্রী কে নিয়ে পূজ দেখতে।
মা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে কারো সঙ্গে কথা বলছে,ঠিক চিনতে পারলাম না।
মা আমাকে ডেকে বলল " দেখ একে চিনতে পারিস কিনা"
দেখলাম একজন মোটা দড়ি বালা লোক, আমার দিকে তাকিয়ে হেঁসে উঠলো, ওই typical হাঁসি তে ধরে ফেললাম ও আমার পুরনো বন্ধু দুর্গা!
ও বলল আয় তোকে আমার German Girl friend র সঙ্গে আলাপ করিয়ে দি।
আলাপ হল, তার মানে ও শেষ অব্দি Germany গেছে ওর ওই hitch hike প্লান অনুযায়ি।
ও স্বীকার করল এবং এও বলল যে ওই দেশের নিয়ম অনুযায়ী ও ওই German মেয়ের জন্য সিটিজেনশিপ পায়।
সেদিন ও আমাকে গুল মারে নি,ওই খাইবার পাস দিয়ে hitck kike করে জার্মানি পৌঁছায়।
ওকে জিগেস করেছিলাম 1972র Munich Olympics দেখেছে কিনা। ও হেঁসে বলল ও ত ম্যানুয়াল labour এর কাজ করে,ও অলিম্পিকস এর সময় বরফ ভাঙছিল। অন্য বিদেশ ফেরা লোকদের মত ও আমাকে কোন বড়লকি চাল মারে নি,যা সত্যি তাই বলেছে।
এর পর আর দুর্গার সঙ্গে দেখা হয় নি।
