Saturday, December 13, 2025

বাংলা 1 লেট নাইট শো

**বাংলা১ লেট-নাইট শো: “রাতের সঙ্গী” – নন্তুর সঙ্গে** 
*(রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টে – কলকাতা, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫)*
*[স্টুডিওর মৃদু আলো। জানালার বাইরে হুগলি হলদে আলোয় ঝিকমিক করছে। দূরে এসপ্ল্যানেডের কাছে শেষ ট্রামের টুংটাং শোনা যাচ্ছে। শো শুরু হয় রবীন্দ্রসংগীতের মৃদু সুরে…]*

**নন্তু** (গভীর, মখমলের মতো গলা, ধীরে, প্রায় ফিসফিস করে):  
আকাশ ভরা সূর্য-তারা…  
গুড ইভনিং, কলকাতা। এটা তোমাদের নন্তু, বাংলা১-এর রাতের সঙ্গী। রাত অনেক হয়ে গেছে, ট্রামের শেষ ঘণ্টাও বেজে গেছে, কিন্তু তোমরা জেগে আছ। আমার সঙ্গে জেগে থাকো।  
আজ রাতে আমরা একসঙ্গে মোমোর  খেয়ে, বিরিয়ানির গন্ধ নিয়ে, রোল চিবিয়ে… আর সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসিকে ঠিকঠাক দেখতে না পাওয়ার এই কালেক্টিভ হার্টব্রেক নিয়ে কথা বলব।  
ফোন লাইন খোলা আছে। ডায়াল করো। কী বলবে?  

*[সুর মিলিয়ে যায় নীরবতায়। প্রথম কলার আসে।]*

**কলার ১ – রাজু, সুইগি ডেলিভারি বয়** (হাঁপাচ্ছে একটু, পেছনে বাইকের ইঞ্জিনের শব্দ):  
দাদা, লাস্ট ডেলিভারি শেষ করে এলাম কলেজ স্ট্রিটে। একটা চিকেন বিরিয়ানি এসপ্ল্যানেড থেকে পার্ক সার্কাস… এখন রাত দুটো, পেটে ছুটছুট আওয়াজ করছে।  

**নন্তু** (মৃদু হেসে):  
আরে রাজু ভাই, বিরিয়ানি ডেলিভার করে নিজে বিরিয়ানি খাসনি? এটা তো অন্যায়!  
বলো, আজ রাতের মুড কী? ফুটবল নিয়ে দুঃখ, না সল্ট লেকের বিশৃঙ্খলা নিয়ে ফ্রাস্ট্রেশন?  

**রাজু**:  
দাদা, মেসি… সল্ট লেকে এসে গেল, কিন্তু আমরা ঠিকঠাক দেখতেই পেলাম না। বাইরে দাঁড়িয়ে হ্যাশট্যাগ দিয়ে মরছি, আর ভিতরের লোকেরাও বোতল ছুঁড়ছে।  

**নন্তু**:  
হ্যাঁ রে, পুরো কলকাতা একটা কালেক্টিভ হার্টব্রেকে ডুবে গেছে – আবার একবার। কিন্তু জানিস রাজু, মেসি চলে গেছে, কিন্তু তোদের মতো ডেলিভারি বয়রা রাতের কলকাতাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তুই হিরো।  
শোন, তোর জন্য একটা গান… প্রতি রাতে বাইকে ১০০ মাইল দৌড়নোর জন্য।  

*[বাজে: “100 Miles” – ইংরেজি গান, সফট রক ভাইব]*  

**নন্তু** (গানের পর):  
রাজু, এখন বিরিয়ানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। ডেলিভারি শেষ, রাত শেষ না… কিন্তু তোর শিফট শেষ। গুড নাইট, হিরো।  

*[পরের কলার]*

**কলার ২ – রিনা, বেহালার গৃহিণী** (গলা কাঁপা, রাগী ফিসফিস):  
নন্তু-দা, ও আবার ড্রিঙ্ক করে বেরিয়ে গেছে। রোজকার রোজকার… এখন রাত তিনটে, ঘরে নেই। বাচ্চারা ঘুমিয়ে গেছে, আমি এখানেই বসে আছি।  

**নন্তু** (গলা আরও নরম, কাউন্সেলর মোড):  
রিনা দি, শান্ত হয়ে বসো। শ্বাস নাও… শ্বাস ছাড়ো।  
জানো, কলকাতার অনেক মেয়েরা রাতে রেডিও শুনে শোয়। তুমি একা নও।  
ও যাবে, এসে পড়বে, কাল সকালে হ্যাঙ্গওভার নিয়ে মাফ মাগবে… আর তুমি অপেক্ষা করবে, কারণ তুমি বড়ো মনের।  
একটা পুরোনো গান শোনো… বেলা বয়ে যায়, যদি ও না আসে…  

*[বাজে: “বেলা বোস” – অঞ্জন দত্তের গান, নস্টালজিক, খুব কলকাতা]*  

**নন্তু**:  
রিনা দি, কাল ও আসবে। আর না এলেও… তুমি স্ট্রং। যখন ইচ্ছে কল করো।  

*[মাঝে মুড বজায় রাখতে]*  

**নন্তু**:  
কলকাতা, রাতের এই শান্তিতে এখন একটা গান যে আমার গানের স্বরলিপি লেখে… হেমন্ত-দার গলায়। শোনো, এই রাতটাকে আরও সুন্দর করে।  

*[বাজে: “আমার গানের স্বরলিপি” – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের আত্মিক বাংলা ক্লাসিক]*  

*[পরের কলার – ক্লাস টেনের মেয়ে, গলা কাঁপছে]*

**কলার ৩ – প্রিয়া**:  
নন্তু-দা… বাবা-মা ফোন দেবে না বলে… আমি আজ… অনেক কিছু ভেবে ফেলেছিলাম…  

**নন্তু** (গলা আরও নীচু, জরুরি কিন্তু শান্ত):  
প্রিয়া, শোন। ফোনটা একটা মেশিন। তুমি একটা জীবন।  
বাবা-মা তোমাকে ভালোবাসে, ওদের ভয় হয় তোমাকে ইন্টারনেটের হাত থেকে বাঁচাতে।  
তুমি খুব ইম্পর্ট্যান্ট। এই রাতটা পার করে দাও… কাল স্কুলে যাও, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলো, আমার শো শোনো।  
লাইফ অনেক বড়ো, ফোন ছোটো। প্রমিস করো এখন ঘুমোতে যাবে?  

**প্রিয়া** (নাক টানছে):  
প্রমিস…  

**নন্তু**:  
গুড গার্ল। এই গানটা শোনো… আর মনে রেখো, তুমি তোমার উপায়েই জিতবে।  

*[বাজে: ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা – “My Way”]*  

**নন্তু** (গানের পর):  
প্রিয়া, তুমি তোমার উপায়েই জিতবে। যখন ইচ্ছে কল করো।  

*[পরের কলার – চিন্তিত ভোটার]*  

**কলার ৪ – বিশ্বনাথ, সল্ট লেকের মধ্যবয়সি ভদ্রলোক** (উদ্বিগ্ন, তাড়াহুড়ো গলা):  
নন্তু-দা, ভোটের লিস্টে আমার নাম থাকবে কি? এই এসআইআর-এর জন্য সব কনফিউশন… ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি, কিন্তু ভয় লাগছে, ইলেকশন আসছে, নাম না থাকলে কী হবে?  

**নন্তু** (শান্ত, আশ্বস্ত করে, কাউন্সেলর ভাইব):  
বিশ্বনাথ-দা, শান্ত। এসআইআর-এর এই গোলমালে অনেকেই টেনশনে আছে, কিন্তু তোমার নাম থাকবে। অনলাইনে ইলেকশন কমিশনের সাইটে চেক করো, না হলে লোকাল বুথে যাও।  
এই শহরে আমরা সবাই এক, ভোটের অধিকার কেউ হারাবে না। রিল্যাক্স, এক কাপ চা খাও, আর এই গান শোনো… আগর মুঝসে মোহাব্বত হ্যায়, তাহলে টেনশনকে দূর করো।  

*[বাজে: “আগর মুঝসে মোহাব্বত হ্যায়” – আপকি পরছাইয়াঁ ছবির রোমান্টিক হিন্দি ওল্ডি, একটু রসিকতার ছোঁয়া নিয়ে]*  

**নন্তু**:  
বিশ্বনাথ-দা, কাল চেক করো। সব ঠিক হয়ে যাবে। গুড নাইট।  

*[শেষ কলার – ১২ বছরের আরজুন, ভয়ে ভয়ে]*

**আরজুন**:  
নন্তু আঙ্কল… মা-বাবাকে পুলিশ বলেছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট… ওদের ফোনে কিছু ফ্রড বলেছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাবে বলে… আমি কী করব?  

**নন্তু** (দৃঢ় কিন্তু ভালোবেসে):  
আরজুন, সাবধানে শোন। এটা স্ক্যাম। পুলিশ কখনো ফোনে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে না।  
তুমি এখন মা-বাবাকে বলো ফোনটা অফ করে দিতে। কোনো লিঙ্ক ক্লিক করবে না, কোনো ইউপিআই পিন দেবে না।  
কাল সকালে কাছের থানায় যাও, কমপ্লেন করো।  
তুমি খুব স্মার্ট বাচ্চা… এই সময় তুমিই ওদের হিরো।  
একটা রোমান্টিক পুরোনো গান শোনো… জানো, লাইফে অনেক সন্ধে অদ্ভুত হয়, কিন্তু সব ঠিক হয়ে যায়।  

*[বাজে: “ইয়ে শাম মাস্তানি” – একটু রসিক হিন্দি ক্লাসিক ভাইব দিয়ে মুড হালকা করতে]*  

**নন্তু** (গানের পর):  
আরজুন, হিরো, এখন ঘুমিয়ে পড়। কাল সব সর্ট হয়ে যাবে।  

*[আরেকজন কলার ঢোকার চেষ্টা করে]*  

**কলার ৫ – অজ্ঞাতনামা রাজনৈতিক উৎসাহী** (উত্তেজিত, র‍্যান্ট করছে):  
নন্তু-দা, এই সরকারটা… সব দুর্নীতি, মেসির ঘটনাটাও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, আর এই এসআইআর বা এনআরসি-র জন্য পুরো বাংলায়—  

**নন্তু** (মসৃণভাবে কেটে দিয়ে, হাসি মিশিয়ে):  
আরে ভাই, রাতের এই শান্তিতে পলিটিক্স না। এই শোটা লাভ, লাইফ আর কলকাতার রোল-বিরিয়ানি নিয়ে। তোমার জন্য একটা গান যে সব কথাকে ওয়ার্ডসে বাঁধে… কিন্তু পলিটিক্স নয়, প্লিজ!  

*[বাজে: “Words” – বিজিসের গান, শান্ত ইংরেজি ট্র্যাক দিয়ে টেনশন কমাতে]*  

**নন্তু**:  
দেখো, কথা সারিয়ে দিতে পারে বা আঘাত করতে পারে… সাবধানে বেছে নাও। কলার, পরের বার পার্সোনাল গল্প বলো।  

*[শো শেষ করতে, গলা উষ্ণ, বহুভাষিক]*  
কলকাতা, রাত অনেক হয়ে গেছে – আজ তো সল্ট লেকের বিশৃঙ্খলার পরেও। কেউ মোগলাই পরোটা খেয়ে ঘুমোতে যাচ্ছে, কেউ উত্তম-সুচিত্রার “সপ্তপদী” আবার দেখতে বসবে।  
তোমরা জেগে থাকো, কারণ এই শহর রাতেই বেঁচে থাকে। ইনসমনিয়াকরা, আমার সঙ্গে থাকো।  
কাল আবার মিডনাইটে দেখা হবে – আশা করি কম বিশৃঙ্খলা নিয়ে। এখন… শুভ রাত্রি, শুভ রাত্রি, গুড নাইট।  
আকাশ ভরা সূর্য-তারা… আবার শুরু হবে।  

*[আউট্রো: “আকাশ ভরা সূর্য-তারা”র ইন্সট্রুমেন্টাল ফেড, দূরে রাতের ফুচকা ঠেলার ঘণ্টির শব্দ মিশিয়ে]*

No comments: